ফাইভার ও আপওয়ার্ক (ফরমালি ওডেস্ক) এ কেন কাজ করা উচিৎ নয়। ব্লু হ্যাকার এর কিছুটা কাহিনী।
আসসালামুয়ালাইকুম। আপনারা হয়তো অনেকেই ফাইভার বা আপওয়ার্কে কাজ করেন বা করবেন। যারা কাজ করছেন, তাদের বলতে চাই থামুন। অনেক হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে, আমরা নিজেরা কিছুই তৈরী করি না আসলে। যাতে না তৈরী করতে পারি, তার জন্য তৈরী হয়েছে আপওয়ার্ক ও ফাইভার এর মতো মার্কেটপ্লেস। আসলে তাদের উদ্দেশ্য কাজ দেয়া নয়, বরং অন্য কিছু। সালটা যখন ২০১২, তখন আমি ভর্তী হই ড্যফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এ। আমি রাজনীতি না করলেও রাজনীতি কিন্তু আমার পিছু নিয়েছিলো। সে যাইহোক, যখন ক্লাস টাইম, ঠিক তখন কাজ পেতাম! আমি আবারো বলছি, যখন ক্লাস টাইম, ঠিক তখন কাজ পেতাম! কিছু বুঝলেন!
ফাইভারঃ ওডেস্কে আমি তখন নিউজিল্যান্ডের প্রজেক্ট করি। এমন সময় আমার ফেসবুকে একটা ছোট বাচ্চার ছবি ভেসে এলো। রক্তাক্ত! সে বলছে, আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো! আমি অনেকক্ষন ছবিটি দেখলাম । তখন আসলে আমি ফিলিস্তিন সমন্ধ্যে জানতে পারি। ইজরাইল কিভাবে হামলা করেছে মুসলিমদের উপর তা নিয়ে জানতে পারি। অনেক্ষন চুপ ছিলাম। অনেক্ষন তাকিয়েছিলাম ছবির দিকে। একটা কমেন্টস করলাম। তোমার জন্য দোয়া রইলো এবং তোমাদের পাশে আমরা আছি।
ঠিক সেই রাতে একটা ইন্টারভিউ কল এলো। ইজরাইল থেকে। উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে বললাম, আমি তোমার কাজটি ফ্রী তে করে দিবো। এটা শুনে সে ভাবলো আমি হয়তো ইজরাইলের লোক বা তাদের হয়ে কাজ করতে আগ্রহী। সে অনেক খুশি হলো। এমন সময় আমার ফোনে একটা কল এলো। ভাই, আপনার পেপাল এর মানি বিক্রয় করবেন? আমি বললাম হ্যা করবো তবে সামনা সামনি ছাড়া নয়। সে আমার সাথে দেখা করলো। তাকে পেপাল এর মানি দিলাম এবং আমাকে সম্ভবত ৭০ টাকা প্রতি ডলার করে দিলো। এরপর তাকে আমি নিয়মিত আমার উপার্জনের পেপাল মানি দিতাম, বিনিময়ে সে আমাকে টাকা দিতো। কাজ প্রচুর কিন্তু টাকা কম আবার ক্লাস হয় না আবার ইউনিভার্সিটির এক্সট্রা ফি দিয়ে ওল্টা টাকার সংকোট। এই ম্যাথ কিছুতেই সল্ভ হচ্ছে না। না হচ্ছে পড়াশুনা, না হচ্ছে সঠিক উপার্জন কিন্তু প্রচুর পরিশ্রম করার পরেও পকেটে টাকা নেই। অনেকটা পন্ডশ্রম। এভাবে কেটে গেলো দুই বছর, সেমিস্টার শেষ হলো মাত্র একটা এবং ৬ সেমিস্টারেরও বেশি টাকা পে করতে হলো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে। আমার খুব ইচ্ছে ছিলো হ্যাকিং নিয়ে পড়াশুনা করা । বাংলাদেশে হ্যাকিং নিয়ে পরাশুনা নেই আসলে। তাই, হ্যাকিং নিয়ে পড়তে বিদেশেও যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো। সে যাইহোক, নতুন একজন প্রফেসর এলেন। তিনি সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে পড়াশুনা করেছেন সুইডেনে। তার ক্লাস কি করবো, শুধু এপেলের মার্কেটিং করে আর এপেলের প্রডাক্ট দেখায়। আমিও বুঝলাম, আসলে বাঙ্গালি মার্কেটিং কাজটা খুব ভালো পারে। সে যাইহোক, হ্যাকিং সমন্ধ্যে জানলাম ইউনিভার্সিটিতে। মারাত্মক ফিল হচ্ছিলো। হ্যাকিং মূলত দুই প্রকার, এক ব্লাক হ্যাট হ্যাকার এবং দুই হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার। আমি আমার কাজে বাস্তব জীবনের সাথে একটা সম্পর্ক খুজে পাচ্ছিলাম। কিন্তু বুঝে উঠতে পাচ্ছিলাম না যে, আসলে হচ্ছে টা কি! চিন্তা করলাম, পড়াশুনা করে আসলে কিছুই হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বি সি ডি লেখা শেখায়! এ বি সি ডি তো সেই শিশু কালে শেষ করেছি। আমাকে হ্যাকার হতে হবে। হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার হতে হবে। কাজের জন্য তা নিয়ে পড়াশুনা করতে পাচ্ছিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজাল্টে প্রথম রোল বা দ্বিতীয় রোল আমার। স্যার প্রথম রোল আমাকে ডাকে কিন্তু আমি ক্লাসেই করি না। সে যাইহোক, মূল বক্তব্যে ফিরে আসি। ভাবলাম হ্যাকার হবো। কিন্তু কাকে টার্গেট করবো বুঝতে পাচ্ছিলাম না। ক্লাস ৯/১০ এ থাকতে ডুল্যান্সার নামের এক ব্লাক হ্যাট কম্পানী আমার ও আমার পরিবারের অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছে কিন্তু কম্পানীর মাথা উধাও। আমি ফ্রীল্যান্সিং করি আর ভাবি যে, কি করা যায়। কিভাবে ডুল্যান্সার এর কাছ থেকে আমার টাকা উদ্ধার করবো। যদি উদ্ধার করতে পারি, তো আমি হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার হতে পারবো। এসব অবচেতন মনে আছে কিন্তু দেখতে দেখতে ইউ এস এ, ইউ কে, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি দেশের সাথে কাজ করা ও অভিজ্ঞতা হলো । আমি খেয়াল করলাম, ওডেস্কে যখন আমার কাজ আসে, তখন দেশে মুসলিমদের ফাসি হয়! এই হিসাবটা মিলাতে পাচ্ছিলাম না। চালু করলাম এস্যাসিন ক্রিড নামক গেমস এর হিস্ট্রি এবং দেখতে পেলাম যে কাজের ধাপে ধাপে আসলে কি কি হয়। সেই গেমসে সকল ইতিহাস হাইডভাবে দেয়া আছে যা বাংলাদেশেও ঘটেছে। তাহলে কি রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা বাহির এ টাকা দিয়ে ডিপ ওয়েবের কোন খুনি দের হায়ার করেছে! এসব ভাবছিলাম। এমন সময় ফ্রী ম্যাশন সমন্ধ্যে জ্ঞান চলে এলো। তারা নাকি ধর্ম নিয়ন্ত্রন করে। অচেনা জায়গার কিছু রহস্যজনক মেয়ে আবার হিজড়া টাইপের কিছু মানুষ আমার জীবনে শনি গ্রহের বলয় এর ন্যায় ঘিরে আছে। কাজ আসে যেদিন, সেদিন ফাসি মুসলিমদের। রাতে ফাসির সময় ইন্টারনেট বন্ধ আবার ক্লাইন্টের চেচাচি বা সেই ব্যাপারে ডিসকাস। আমি আল্লাহ ব্যাতিত কোন রাজা রানী মানি না মানতামও না। সে যাইহোক, ওডেস্ক রহস্যটা আসলে কি! এই নিয়ে ভাবছিলাম। তারা সে সকল কাজ করে নেয়, তা আসলে বাস্তব জীবনে কি কাজে আসে তা অযৌক্তিক মনে হচ্ছিলো। আবার কোন ক্লাইন্ট জজ , কেউ আবার ইউনাইটেড ন্যাশনের কেউ আবার ফোর্স এরকম। কিন্তু, এর সাথে মুসলিম হত্যা আছে সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত হলাম। এরপরের ধাপে পরিচয় হয় ইলুমিনাতির। যারা আবার ফ্রী ম্যাশনদের ঈশ্বর (নাউজুবিল্লাহ) । আমি শুধু দেখে যাচ্ছিলাম আর কাজ করে যাচ্ছিলাম। কাজ আসলে ফাঁসি হয় মুসলিমদের। আসলে ওডেস্কের সাথে কারা জড়িত। এই নিয়ে ভাবা শুরু করলাম। ভাবলাম হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার হবো। রিক্স একটা নেয়ায় যায়। নিজেকেই তদন্ত করতে হবে। আসলে ভিতরে কি আছে। করলাম ওডেস্ক হ্যাক। একাউন্ট ব্যালেন্স এক সপ্তাহে ১ লক্ষ্যের অধিক। কিন্তু আমি তা বের করলাম না। বরং তাদের নিয়ে একটা পরিকল্পনা করলাম। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুইডেন এর) সে শিক্ষককে জানালাম অনলাইনে। স্যার, আপনি একাই হ্যাকার নন। আমিও হ্যাক করেছি। আমি তাদের মেসেজ দিতে চাই যে ” আমি শিক্ষার উদ্দেশে আপনাদের হ্যাক করেছি। কিছু মনে করবেন না। হ্যাকিং ইজ নট এ ক্রাইম। ইটস এ প্রাইভেসি ল্যাকস। আপনাকে আমি সকল কিছু ফেরত দিবো। বিনিময়ে আমার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার জন্য আপনি চাইলে আমাকে পে করতে পারেন আবার নাও পারেন।” স্যার কে বললাম, স্যার এভাবে সুন্দর করে আমাকে ইংরেজিতে ভালো ভাবে লিখে দিবেন প্লিজ। স্যার বললো, শুভ, আপনার কি মনে হয় আমি এসব পার করে আসিনি? তারপর তার আর রেসপন্স নেই এবং সম্ভবন্ত আমাকে ব্লক করে দিয়েছিলো। আমি নিজেই আমার নাম দিলাম “ব্লু হ্যাকার” বা নীল হ্যাকার। তারপর আমি সর্বপ্রথম সিদ্ধন্ত নিলাম যে, মুসলিমদের একাউন্ট প্রথমে ফেরত দিবো। এরপূর্বে জানতাম গুগল হ্যাকারদের চাকরি দেয়। কিন্তু কিভাবে চাকরি নিবো! সে যাইহোক। এডসেন্স এ এপ্লাই করা মাত্রই গুগলের সেই ছোট চাকুরিটা হয়ে গেলো আমার। যা প্রায় ১২ বছর ছিলো এবং পরে রিমুভ করেছি। যাইহোক, আমি প্রত্যেকের সাথে যোগাযোগ শুরু করলাম। বিদেশি একজনের সাথে ব্লু হ্যাকার হয়ে যোগাযোগ করলাম এবং জানালাম তাকে আমি হ্যাক করেছি। “প্লিজ ডু নট এফ্রাইড ইন দিস সিচুয়েশন। হ্যাভ এ সলুশন” তারপর সেই বিদেশি কান্না কান্না ভাবে লিখে দিলো আমাকে ” আজ আমার সন্তানের জন্মদিন। তার জন্য কেনাকাটা করার আছে। আমি টাকা উঠাতে না পারলে তার জন্মদিন ব্রিথা যাবে।” মনে মনে ভাবলাম “জন্মদিন তো হারাম” সে যাইহোক, এইসব নাস্তিক বা বিধর্মি জন্মদিন পালন করবে এটাই স্বাভাবিক । তার একাউন্ট ফেরত দিয়ে বললাম ” তোমার ছেলে কে বলো যে, আমি হ্যাপি বার্থ ডে বলেছি।” এভাবে অনেক একয়াউন্ট ঘুরে প্রচুর টাকা থাকলেও কোন টাকা নিলাম না। আমার শুধু ইচ্ছে ছিলো যে, মুসলিমদের ফাসির পিছে কারা আছে। রাজনীতি, এখান থেকেই হয়। রাজা- রানীরা এদের চামচা। আর বেশি কিছু না বলি। আসলে, তারা আমাদের ট্রেস করে। কার সাথে কি কথা বলি। কোথায় যাই। আছে আরো হাইড টেকনোলজি। যা আমরা অনেকেই জানিনা। যেমন আপনি ফোন নিয়ে বের হলে ফোনের সেন্সর ও মুভমেন্ট অনুযায়ী আপনার রিয়েল এভাটার লাইভ ম্যাপ এ ভার্চুয়াল ভাবে একদম লাইভ ক্যামেরার মতো দেখায়। আপনার ফোনের সমস্ত কথা সার্ভারে আপ্লোড থাকে। এসকল কিছু ব্যবহৃত হয় ব্লাক মার্কেটে বা ডিপ ওয়েবে। তারা মানুষিক ভাবে শ্ত্রুদের নিধণ করে, ফাসি দেয় জজদের হ্যাক করে। যেমন তাদের গোপন তথ্য ফাস হবে যদি অমুক লোককে ফাসি না দেয়া হয়। ঠিক এভাবে। তার মধ্যে বাংলাদেশের মুসলিম দল ব্যতিত সকল দলের লোকজনেই প্রায় বন্দি। তাহলে কি বুঝলেন! এসব বাংলাদেশে শুরু করেছিলো ওডেস্ক। ওডেস্ক কে এমন ভাবে আক্রমণ করেছি যে তারা পালিয়েছে। সে ঘটনা বলার নয়। তবে ২০২৫ এর সুপার ম্যান মুভি টা দেখলে বুঝতে পারবেন যে আপওয়ার্ক এবার লেক্সস লুথর কেন সুপারম্যান কে মারতে চেয়েছিলো এবং কিভাবে। সে যাইহোক, আমি যদি ব্লাক হ্যাট হ্যাকিং করতাম, তবে হয়তো ইলন মাস্ক কে ছাড়িয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু সত্যি এই যে, টাকার অভাবে আমি বি এস সি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করতে পারিনি। সে যাইহোক, ফাইবার আমার বা আমাদের হাত ধরে এসেছে। আর সেটা ঠিক এডলোফ হিটলার স্ট্যাইলে ইহুদি নিধনের জন্য আমিও আমার লোক জন ঢুকিয়ে দিয়েছি। ফাইবারে কাজ করার সময় সাবধান। যদি মনে হয় আপনি কোন কাজ করার পর অসুস্থ ফিল করছেন, তবে স্টক করার পূর্বেই তা ছাড়ার পরামর্শ রইলো।

